পাকিস্তানিদের দৃষ্টি তে একাত্তর
(0 reviews)
Price:
৳350
Share:
Sold by
ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড
74/B/1 green roar RH home center 2nd floor suit# 224-239 tejgaon ,dhaka
(0 customer reviews)
Top Selling Products
-
অসমাপ্ত আত্নজীবনী
৳525 -
চিলেকোঠার
৳300 -
মূল ধারা ৭১
৳350
যারা অখণ্ড পাকিস্তানের চেতনার কফিনে সর্বশেষ পেরেক পুঁতে দিয়ে পঁচিশে মার্চের ভয়াল রাত্রির ঘটনা ঘটায় এবং সেই নিষ্ঠুরতা পুরো নয় মাস বজায় রাখে, একটি গণতান্ত্রিক অর্জনের ফলকে নস্যাৎ করে দিয়ে দেশের এক অংশে নির্বিচারে গণহত্যা,নারী নির্যাতন,নিপীড়ন হওয়া সত্ত্বেও কেন পাকিস্তানের অপরাংশের জনসমাজের প্রায় সকল স্তরে নির্লিপ্ততা দেখায় বআ এজন্য বাঙিলীদের আগাগোড়া দোষারোপ করে,কী প্রেক্ষাপট,কেন এমনটি করেছিল,একাত্তরের ঘটনাবলীকে তারা তখন কীভাবে মূল্যায়ন করেছিল বা এখনো করে সে ব্যাপারে খুব সামান্য কথাবার্তাই আমরা এ পর্যন্ত শুনেছি।
পাকিস্তানীদের কাছ থেকেও এসব বিষয়ে কোন খোলামেলা বক্তব্য বা মূল্যায়নও আশা করা যায় না,কারণ বিষয়টি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড ও তার পরাজয়কে ঘিরে আবর্তিত এবং পাকিস্তানী সমাজজীবন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্পষ্টভাবে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করার মত স্বাধীনতা ভোগ করে না।
এই প্রেক্ষাপটে উপরোক্ত বিষয়ে যতটা সম্ভব তথ্য আহরনের লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার গ্রহণের ভিত্তিতে এই বইটি প্রণীত হয়েছে।যাঁরা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন সামরিক-বেসামরিক ১১ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আমলা,৯ জন রাজনীতিবিদ ও বাকী ৮ জন সিভিল সমাজের প্রতিনিধি।সাক্ষাৎকারদানকারীদের অধিকাংশ প্রত্যক্ষভাবে পূর্ব পাকিস্তান বিষয়ে নীতি নির্ধারণে ও একাত্তরের যুদ্ধে জড়িত ছিলেন।যাঁরা জড়িত ছিলেন না তাঁরাও পাকিস্তান সমাজের সচেতন অংশের প্রতিনিধি।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি কী ছিল তা বুঝতে গেলে বা এ বিষয়ে কিছু রচনা করতে গেলে সংকলিত এই সাক্ষাৎকারগুলি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
লেখিকা প্রত্যক্ষ করেছেন পঁচিশে মার্চের ভয়াল রাত,গুলিতে আহত স্বামীর মৃত্যু।পরবর্তী ন’মাস লড়াই করেছেন বেঁচে থাকতে এবং একমাত্র কন্যাকে বাঁচিয়ে রাখতে।নিজ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সেই বন্ধুর সময়ে অনেক কিছু দেখেছেন,অনেক কিছু শুনেছেন অনুভবের সেই কথকতা জীবন সায়াহ্নে নৈবেদ্য করে তুলে দিয়েছেন এই বইতে,আগামী প্রজন্মের কাছে।
পাকিস্তানী শাসনেরশেষ কয়দিনে ঢাকায় বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশায় জেনারেল রাও ফরমান আলী জড়িত ছিলেন কিনা এবং থাকলে কতখানি জড়িত ছিলেন তার তদন্ত হইনি।তবে তদানীন্তন পাকিস্তানী সিভিল অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের প্রধান হিসেবে তার জড়িত থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।তাই বাঙালীর কাঠগড়ায় রাও ফরমান আলী কতখানি অপরাধী সেটা তদন্ত সাপেক্ষ।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের অপমানজনক পরাজয় বরণ করার জন্যে পাকিস্তানী জনগণের কাঠগড়ায় তখনকার জেনারেলদের অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে।সেই অপরাধ ও অপরাধবোধ থেকে নিষ্কৃতি পেতে অনেক জেনারেলই আত্মজীবনীতে একাত্তরের যুদ্ধে নিজেদের দোষ ও ভুল-ত্রুটিগুলো ঢাকাতে এবং সাফাই গাইতে চেষ্টা করেছেন।রাও ফরমান আলীও তার ব্যতিক্রম নন।
এসব লেখায় তাই মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অনেক ঘটনাই এসেছে এবং জেনারেলরা নিজেদের সুবিধামতো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এবং যে সব কারণে পাকিস্তান হেরেছিল,সেসব অনেক ভুল ও দোষ পরস্পরের ঘাড়ে চাপিয়েছেন।
জেনারেল রাও ফরমান আলীর How Pakistan Got Divided বইটি রচনাশৈলী বিন্যাসের দিক থেকে অন্য জেনারেলদের চাইতে অনেক উন্নত।বইটি তিনি কেন লিখেছেন এ সম্পর্কে রাও ফরমান আলী খানের ভাষ্য,”অন্য অনেকে যা দেখেছেন বা দেখতে পেয়েছেন,আমি তার চেয়ে অনেক বেশী দেখেছি।“
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের যুদ্ধ ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু দ্রুত গতিসম্পন্ন।মাত্র তের দিনব্যাপী এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল মুলত নদীবহুল অঞ্ছলে,আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য জা আদর্শ।
২৬ মার্চ ১৯৭১ পূর্ব পাকিস্তানের পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নগ্ন হামলা থেকে শুরু করে ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সন্ধ্যায় পশ্চিমাঞ্চলে ভারতীয় বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানি বোমাবর্ষণ থেকে সৃষ্ট সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সামরিক অভিযান,শেষ পর্যন্ত পাকিস্থান ইস্টার্ন কম্যান্ডের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যার পরিসমাপ্তি ঘতে-সবকিছুই লেখক বর্ণনা করেছেন।
স্ট্র্যাটেজির রূপরেখা আঁকতে গিয়ে কিভাবে প্রধান সড়ক এড়িয়ে পার্শ্বরাস্তা ব্যবহার করে শত্রুদের প্রতিরোধের শক্ত ঘাঁটিগুলোকে পাশ কাটিয়ে আক্রমণরেখা নির্বাচন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে মেইন্টেন্যান্সের জন্য পথ খুলে দেয়া হয়েছে,তার সমস্ত খুঁটিনাটি বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।দেশের প্রধান ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্র ঢাকার সাথে যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্রগুলো আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।এই অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।মুক্তিবাহিনীর ভূমিকা ও দেশের স্বাধীনতার জন্য তাদের অসীম ত্যাগের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।নিরাপত্তা পরিষদের চাপ এবং চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান-ঘেঁষা ভুমিকা ছাড়াও আত্মসমর্পণের আলোচনা ও দলিলে স্বাক্ষরের একটি প্রত্যক্ষ বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা চারটি খাতা ২০০৪ সালে আকস্মিকভাবে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার হস্তগত হয়।খাতাগুলি অতি পুরান,পাতাগুলি জীর্ণপ্রায় এবং লেখা প্রায়শ অস্পষ্ট।মূল্যবান সেই খাতাগুলি পাঠ করে জানা গেল এটি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্নজীবনী,যা তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন,কিন্তু শেষ করতে পারেন্নি।জেল-জুলুম,নিগ্রহ-নিপীড়ন যাঁকে সদা তাড়া করে ফিরেছে,রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসর্গীকৃত-প্রান,সদাব্যস্ত বঙ্গবন্ধু যে আত্মজীবনী লেখায় হাত দিয়েছিলেন এবং কিছুটা লিখেছেন,এই বইটি তার সাক্ষর বহন করছে।
বইটিতে আত্মজীবনী লেখার প্রেক্ষাপট,লেখকের বংশ পরিচয়,জন্ম,শৈশব,স্কুল ও কলেজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ড,দুর্ভিক্ষ,বিহার ও কলকাতার দাংগা,দেশভাগ,কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনিতি,দেশ বিভাগের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পূর্ব বাংলার রাজনীতি,কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন,ভাষা আন্দোলন,ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ প্রতিস্থা,যুক্তফ্রন্ট গঠনও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন,আদমজীর দাংগা,পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক সাসন প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।আছে লেখকের কারাজীবন,পিতা-মাতা,সন্তান-সন্তুতি ও সর্বোপরি সর্বংসহাসহধর্মিণীর কথা,যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সকল দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন।একইসঙ্গে লেখকের চীন,ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
এক লক্ষ বছর আগে,অন্তত ছয়টি মানবপ্রজাতি পৃথিবীতে বসবাস করত।বর্তমানে বাস করে মাত্র এক্তি-আমরা-হোমো স্যাপিয়েন্স-রা।আধিপত্যের লড়াইয়ে আমাদের প্রজাতি কীভাবে সফল হলো?কেন আমাদের-শিকারী-সংগ্রাহক পূর্বপপুরুষেরা একত্রিত হয়ে শহর এবং রাজ্য গড়ে তুল্ল?কীভাবে আমরা-দেব-দেবী,জাতি,এবং মানবাধিকারে বিশ্বাসী হলাম?কীভাবে আস্থাশীল হলাম টাকা-কড়ি,বই-পত্র,এবং আইন-কানুনে?কীভাবে বরণ করে নিলাম আমলাতন্ত্র,সময়সূচী আর ভোগবাদের দাসত্ত?আসছে সহস্রাব্দগুলোতে আমাদের এই পৃথিবী কেমন রূপ নেবে?
অধ্যাপক ইয়ুভাল নোয়াহ হারারির স্যাপিয়েন্স-এর পরিসর সম্পূর্ণ মানব ইতিহাসজুড়ে প্রসারিত,পৃথিবীর বুকে পদচারণকারী প্রথম মানুষদের থেকে শুরু করে বুদ্ধিবৃত্তিক,কৃষি,এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের রেডিক্যাল-এবং কখনও কখনও বিধ্বংসী-উদ্ভাবন পরজন্ত।জীববিদ্যা,নৃতত্ব,জীবাশ্মবিদ্যা,ও অর্থনীতির অন্তর্দৃষ্টি,এবং রচনাজুড়ে বিভিন্ন চিত্রের সাহায্যে তিনি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাসের প্রবাহ মানবসমজ,আমাদের চারপাশের প্রাণী ও উদ্ভিদজগত,এবং এমনকি আমাদের ব্যক্তিত্বকেও গড়ে -পিটে নেয়।আমরা কি ইতিহাসের পর্দা উত্তোলনের সাথে সাথে আরও সুখী প্রজাতিতে পরিণত হয়েছি?আমরা ল আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনরীতির উত্তরাধিকার থেকে নিজেদের কখনও মুক্ত করতে পারব?এবং কি করে আমরা,যদি আদৌ তা সম্ভবপর হয়,অনাগত শতাব্দীগুলোর গতিপথকে প্রভাবান্বিত করব?
ইতিহাস আর বিজ্ঞানের মেল ঘটিয়ে,সাহসী,সুবিস্তৃত সাড়া-জাগানো স্যাপিয়েন্স,মানুষ সম্পর্কে আমাদের সমস্ত জ্ঞানকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেঃ আমাদের চিন্তাভাবনা,আমাদের কাজকরম,আমাদের ঐতিহ্য...এবং আমাদের ভবিষ্যৎ।
There have been no reviews for this product yet.