বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম : পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনা
লেখক : রনে দেকার্ত লোকনাথ ভট্টাচার্য
বিভাগ/ শ্রেণী: দর্শন
কার্তেজীয়পদ্ধতি বলে
যা
খ্যাত,
তার
প্রথম
সুস্পষ্ট ইঙ্গিত
এই
গ্রন্থে দেকার্ত দিলেন।গ্রন্থটি তার
মানসিক
যাত্রার বিবরণ,
তার
চিন্তার এক
আত্মজীবনী। লিখলেন
লাতিনে
নয়,ফরাসিতে, কারণ তিনি পাঠক
হিসেবে
পেতে
চেয়েছিলেন শুধুমাত্র পণ্ডিতদেরই নয়,
সাধারণবুদ্ধিসুদ্ধিসম্পন্ন যে-কোনো লোককেই, নারীদের পর্যন্ত। যদিও
ফরাসিতে লিখিত,
বইটিপ্রকাশিত হয়
হল্যান্ড থেকে
এবং
তাতে
লেখকের
নামও
উল্লিখিত হয়
নি।
তিনটিবড় বড়
নিবন্ধের মুখবন্ধ হিসেবে
বইটি
লিখিত
হয়,
নিবন্ধগুলির বিষয়
ছিল
যথাক্রমেজ্যামিতি, আলোকবিদ্যা এবং
আবহবিদ্যা—অর্থাৎ
এই
বিষয়গুলিতে দেকার্তের তৎকালীনআবিষ্কার বা
ধ্যানধারণা নিবন্ধগুলির আলোচ্য
ছিল।
সুমধুর
ও
প্রাঞ্জল ভাষায়
লিখিত“পদ্ধতি বিষয়ক আলোচনা”
গ্রন্থটি আজো
ফরাসি
সাহিত্যের অন্যতম
শ্রেষ্ঠ সম্পদ
বলেপরিগণিত হয়।
তবে
বইটির
এমন
নামকরণ
সত্ত্বেও তার
পদ্ধতির কোনো
বিস্তারিত ব্যাখ্যাদেকার্ত এখানে
দেন
নি
সেটা
তিনি
দেন
বেশ
কিছু
পরে,
লাতিনে
লিখিত
তার
“মনকে
চালিতকরার নিয়মকানুন” গ্রন্থে। এ
সত্ত্বেও বর্তমান গ্রন্থে যা
আছে,
তার
সাহিত্যিক,দার্শনিক ও
বৈজ্ঞানিক মূল্য
কিছু
কম
নয়।
সংক্ষেপে বলতে
গেলে
এখানে
তিনি
আলোচনাকরছেন তার
পদ্ধতি
ও
অধিবিদ্যা-সংক্রান্ত কিছু
প্রশ্নের, বিচার
করছেন
কিছুবৈজ্ঞানিক মতবাদের (যেমন
রক্তসঞ্চালন নিয়ে
হার্ভের আবিষ্কার, যাকে
অভিনন্দনজানাতে আরো
দুয়েকজনের সঙ্গে
দেকার্ত সর্বপ্রথমে এগিয়ে
আসেন),
এবং
মন্তব্য করছেনবিজ্ঞানের নানান
শাখায়
অধিকতর
অগ্রগতির সম্ভাবনা সম্পর্কে। বইটিকে
বলছেন
“আলোচনা,কারণ তার আবিষ্কৃত পদ্ধতিটিকে মতবাদ
বলে
কারো
ঘাড়ে
চাপিয়ে দিতে
এখনই
চাননা—উদ্দেশ্য তার, বিষয়টি নিয়ে
কিছু
কথা
বলা।
ফরাসিদার্শনিক, বৈজ্ঞানিক ও
গণিতজ্ঞ রনে
দেকার্তের জন্ম
ফ্রান্সের এক
ছোট
শহরে,
১৫৯৬খ্রিস্টাব্দের ৩১
মার্চ,
মৃত্যু
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোল্মে, ১৬৫০-এর ১১ফেব্রুয়ারিতে। মধ্যযুগ ও
রেনেসাসের সময়
যখন
দার্শনিক চিন্তা
বিভ্রান্তির পাকেপড়ে আর
অগ্রসর
হতে
পারছিল
না,
তিনিই
যুক্তিবাদের প্রবর্তন করে
দর্শনকে সেই
পঙ্কিলনিয়তি থেকে
মুক্তি
দিলেন,
বিজ্ঞানকে দর্শনের সঙ্গে
যুক্ত
করে
উভয়েরই উন্নতির পথপ্রশস্ত করলেন।