বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম : ধর্মমনস্তত্ত্ব পরিচিতি
লেখক : ডক্টর এম. মতিউর রহমান
বিভাগ/ শ্রেণী: দর্শন
উনিশ শতকের শেষ দিকে মনস্তত্ত্বের বিজ্ঞানধর্মী আলোচনার সূত্র ধরেই ধর্ম অধ্যয়নের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। ধর্মের বিজ্ঞানধর্মী পঠনপাঠন বা অধ্যয়নের ফলেই মানুষ বুঝতে পারে আচারআচরণ, চিন্তন এবং অনুভূতির ধর্মীয় পন্থা সম্পর্কে আমাদের কীভাবে অগ্রসর হতে হয়। ওই সময়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম জেম্স-কে আমন্ত্রণ জানানো হয় এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিফোর্ড বক্তৃতা প্রদানের জন্য। উইলিয়াম জেম্স। এই আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত চর্চার বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বক্তৃতা প্রদান করেন। এসব বক্তৃতায় তিনি ধর্মকে প্রকৃতিবিজ্ঞানের একটি বিশেষ শাখা হিসেবে চিহ্নিত করতে প্রয়াসী হন। আর তখন থেকেই শুরু হয় ধর্মের বিজ্ঞানধর্মী আলোচনা ও চর্চার। স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, ধর্মমনস্তত্ত্ব হচ্ছে ধর্মীয় বিষয়াদির মনস্তাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, ধর্মীয় বিশ্বাসের যৌক্তিকতা নিয়ে গবেষণা করা ধর্মমনস্তত্ত্বের অন্যতম কাজ। আর এখানেই নিহিত রয়েছে। বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান হিসেবে ধর্মমনস্তত্ত্বের স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য। এ বিষয়গুলো সামনে রেখেই রবার্ট হেনরি থাউলেস উপস্থাপন করেছেন তার An Introduction to the Psychology of Religion শীর্ষক কালজয়ী গ্রন্থটি। এ শিরোনামেই গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে। বাংলা ভাষায় অনূদিত ধর্মমনস্তত্ত্ব পরিচিতি শীর্ষক বর্তমান গ্রন্থটি এর তৃতীয় সংস্করণ, যা ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। পুরনো সংস্করণের ওপর ভিত্তি করেই থাউলেস তৃতীয় সংস্করণের অধ্যায় ও শিরোনাম অভিন্ন রেখেছেন। আধুনিক মরমিবাদের সঙ্গে যেসব বিষয়ের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই, সেগুলোকে তিনি তৃতীয় সংস্করণে স্থান দেননি। একাদশ অধ্যায়টি ধর্মের গবেষণার ওপর লেখা, প্রথম সংস্করণে যা একেবারেই উপেক্ষিত ছিল। আর ধর্মবৈচিত্র্য নিয়ে ষোড়শ অধ্যায়টি থাউলেস-এর গ্রন্থের তৃতীয় সংস্করণে একেবারে নতুন। অন্যান্য বিষয়ে প্রথম সংস্করণের সঙ্গে তৃতীয় সংস্করণের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য অসদ্ভাব নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সবকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের পাঠক্রমে রবার্ট হেনরি থাউলেস-এর বর্তমান গ্রন্থটি অবশ্য পাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত। মোট সতেরোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করে থাউলেস তৃতীয় সংস্করণে তাঁর বক্তব্যধারা তুলে ধরেছেন। বাঙলা ভাষায় গ্রন্থটির অনুবাদ বা এর কোনো ভাষ্যগ্রন্থ এর আগে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। তাই বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে এটিই প্রথম বাঙলা অনুবাদ। বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বাঙলাভাষায় দর্শনচর্চা করছেন। অনূদিত গ্রন্থটি তাদের সবার কাজে লাগবে বলে মনে করি। অনুবাদ যাতে মূলানুগ হয় সেদিকে অনুবাদক পর্যাপ্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন।