তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান
-
ইন্টারভিউ
৳100 -
স্বাধীনতার কৃষ্ণপক্ষ
৳100 -
বীর বাঙালির ছড়া
৳150 -
স্মৃতি অম্লান ১৯৭১
৳400 -
মুক্তিসংগ্রাম
৳600
বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম : তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান
লেখক : হুমায়ুন আজাদ
বিভাগ/ শ্রেণী: ভাষা ও অবিধান
Publish
Date: 2nd Edition 2012
Page
No: 188
Size: 5.5×8.5
Binding: Hardcover
ISBN No: 978 984 04 1497 0
কলকাতায়, এসিয়াটিক সোসাইটির সভায়, উইলিয়ম
জোন্সের বিখ্যাত বক্তৃতাটির। (২ ফেব্রুয়ারি ১৭৮৬) দু-শো দু-বছর আজ পূর্ণ হলো। এ-বইয়ের
ভূমিকা লিখতে বসে অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে আমার মনে হচ্ছে ওই বক্তৃতাটির দু-শো দু-বার্ষিকী
উদযাপন করছি। জোন্সের বক্তৃতার পর উদ্ভূত, বিকশিত ও অনেকটা অবসিত হয়ে গেছে তুলনামূলক
ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান। উনিশশতক নেই, এ-শাস্ত্রের স্বর্ণযুগও আর নেই। বাঙলায় বিশশতকের
শুরু থেকে চর্চা হচ্ছে তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানের। ভাষাবিজ্ঞান ও ঐতিহাসিক
ভাষাবিজ্ঞান এক সময় একার্থক হয়ে উঠেছিলো বাঙলায় : আমাদের বিশ্রুত ভাষাবিজ্ঞানীরা সবাই
তুলনামূলক-ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানী। কিন্তু বিস্ময়কর ঘটনা হচ্ছে বাঙলা ভাষায় তুলনামূলক-ঐতিহাসিক
ভাষাবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও প্রণালিপদ্ধতিবিষয়ক কোনো পাঠ্যগ্রন্থ নেই। আমাদের ভাষাবিজ্ঞানীরা
তত্ত্ব ও প্রণালিপদ্ধতিতে উৎসাহী ছিলেন।
; তথ্য ও বিবরণের প্রতিই ছিলো তাদের আগ্রহ। তাঁদের বই পড়ে বিভিন্ন ভাষার সম্পর্ক,
বাঙলা ভাষার উদ্ভব ও বিকাশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারি; শুধু জানতে পারি না সে-তত্ত্ব
ও কৌশল, যার প্রয়োগে তারা উঘাটন করেন বিভিন্ন ভাষার সম্পর্ক, বিবৃত করেন বিশেষ ভাষার
ইতিহাস। শিক্ষার্থীদের এশাস্ত্রটি শেখানোর দায়িত্ব নেয়ার পর বিপন্ন বোধ করি আমি; কারণ
বাঙলা ভাষায় এমন কোনো বই নেই, যেটির ওপর নিজে নির্ভর করতে পারি, এবং নির্ভর করার পরামর্শ
দিতে পারি শিক্ষার্থীদের। ইংরেজিতে রয়েছে তুলনামূলক-ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞানবিষয়ক বহু
বই; এমনকি গত কয়েক দশকেও রচিত হয়েছে এ-শাস্ত্রের তত্তপ্রণালিপদ্ধতিবিষয়ক বেশ কিছু
বই। তত্ত্ব ও প্রণালিপদ্ধতিতে আমি বিশ্বাস করি; তাই এ-বইটিতে জোর দিয়েছি তত্ত্ব ও
পদ্ধতির ওপর। কারণ তত্ত্ব ও প্রণালিপদ্ধতি জানলে শিক্ষার্থী নিজেই হয়ে উঠতে পারেন
বিজ্ঞানী; অন্যের পরিবেশিত তথ্য ও বিবরণের ওপর নির্ভর করার তার দরকার পড়ে না। বইটি
রচনায় আমি দ্বিধাহীনভাবে সাহায্য নিয়েছি বিভিন্ন বইয়ের বিশেষ করে ইংরেজিতে লেখা বইয়ের;
এবং দরকার মতো সে-সব বই থেকে দু-হাতে নিতেও দ্বিধা করি নি। কারণ এ-বইটি জ্ঞানার্থীদের
কল্যাণের কথা ভেবে লিখেছি; এবং এটিই আমার একমাত্র বই, যার লক্ষ্য বিশেষ এক শ্রেণীর
জ্ঞানার্থীর কল্যাণসাধন।