নির্বাচিত সেরা সাত শামসুর রাহমান
বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম : নির্বাচিত সেরা সাত শামসুর রাহমান
লেখক : শামসুর রাহমান
বিভাগ/ শ্রেণী: সংকলন
বাংলা
কবিতার
ধারায়
এসবেরই
অন্তর্লিখন রয়েছে
আধুনিক
কবি
শামসুর
রাহমানের দীর্ঘ
কাব্যগাথায়। তিরিশের কবিতার
সম্প্রসারণ ঘটিয়ে
তিনি
কবিতাকে দিয়েছেন বাংলাদেশের জাতিরাষ্ট্রের মানচিত্র, দিয়েছেন কবিভাষার স্বতন্ত্র প্রকাশ। আধুনিক
কবির
যে
উৎসাহ
জড়িয়ে থাকে
আত্মসন্ধিৎসায় ও
মননভাবনায় তার
কল্লোক্তিপ্রবণ (Pseudo-statement) অন্তর্বয়নে ঋদ্ধ
তাঁর
কবিতা।
এই
সংকলনে
গৃহীত
সাতটি
কাব্যগ্রন্থের প্রথম
কাব্য
প্রথম
গান,
দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
থেকে
তাঁর
যে
পথচলার
শুরু
তাতে
লক্ষ
করা
যায়
জীবনানন্দীয় চিত্রময়তার বর্ণগভীরতা, নাগরিক
নৈঃসঙ্গ্য, নাগরিক
সত্তা
ও
ব্যক্তিসত্তার দ্বিধাবিভক্তি। ক্রমে
তিনি
আরও
বড়
মাত্রায় গভীর
বাস্তবে এসে
দাঁড়ান রৌদ্র
করোটিতে। এখানে
তিনি
প্রতিমুহূর্তের বর্তমানকে প্রত্যক্ষ করেছেন। বিলীয়মান অতীতে,
তার
ভাবনা,
অভিজ্ঞান ও
সংবেদন
হয়ে
উঠেছে
কোলাজ,
সংলাপিতা ও
দৃশ্যচিত্রমালা। কাব্যযাত্রাপথে নিজেকে
অতিক্রমের বাঞ্ছায় তিনি
ক্রিয়ামুখর, কিন্তু
নিজ
বাসভূমের স্পেস
কখনো
ছাড়েন।
ছাড়েন
না
নিজের
নীলিমাচারী মনের
উল্লম্ব দিগন্ত
ছুঁয়ে-ফেলার বাসনা। নিরালোকে দিব্যরথ চালিয়ে তিনি
মুক্তির পরিধি
পরিক্রমণ করেন,
স্বপ্ন
ও
সৌন্দর্যের সন্ধান
করেন।
পথ
চলেন
কাব্যভাষার উত্তরণ-বাসনার হাত ধরে,
নির্মাণ করেন
নাগরিক
ঢাকার
মাপা
মাপা
ছন্দ।
শামসুর
রাহমানের কৃতিত্ব এখানেই
যে
তিনি
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনস্পন্দনটিকে ছন্দে
গ্রথিত
করতে
পেরেছেন। তাঁকে
এশিয়ার শ্রেষ্ঠ কবিও
বলা
হয়েছে। দীর্ঘ
কবিজীবনে যা-কিছু রচনা করেছেন। তার
কিছু
অংশ
মাত্র
গ্রন্থিত সাতটি
কাব্যে
প্রতিবিম্বিত, বাকিটুকু রয়ে
গেছে
অধৃত।
কবিতায় অবশ্য
কবিকে
সবটা
ধরা
যায়
না,
যদি
না
তিনি
দেশমৃত্তিকার সঙ্গে
আত্মসত্তাকে জড়িত
না
করেন,
এই
বিজড়ন
রাহমানের কবিতাকে করেছে
অনন্য।