বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম : নির্বাচিত সেরা সাত আল মাহমুদ
লেখক : আল মাহমুদ
বিভাগ/ শ্রেণী: সংকলন
বাংলাদেশের কবিতার সবচেয়ে নিজস্ব মুদ্রাঙ্কিত কবি হচ্ছেন আল মাহমুদ, আপাদনখশির তাঁর কবিত্বময়তা। পাঠকের হৃদয়স্তর ছুঁয়ে-থাকার কবি তিনি। যে ইয়োরোপীয় আধুনিকতা তিরিশের বিদগ্ধ পঞ্চপাণ্ডবের হাতে ক্রমান্বয়ে হয়ে উঠছিল স্বদেশাভিমুখী, আত্মঅতিক্রমী বহুজনসংলগ্ন সেই দিকটিই বাংলাদেশে পঞ্চাশের শেষে ও ষাটের শুরুতে স্বদেশের মৃত্তিকার গভীরে শিকড় ছড়াতে থাকে। আধুনিকতা আর মৃত্তিকার প্রাণময়তা আল মাহমুদের কবিতার প্রকৃত মুখশ্রী। লোকায়ত সংস্কৃতির ছন্দসুর, সংসারমানুষজনের লাবণ্যভঙ্গিমা আর ভাষাবিভঙ্গ এবং প্রাকৃতিকতার উদ্বোধনে তাঁর কবিতা ভাববিভোর। আবার গভীর মননজিগীষাও সূক্ষ্ম তলে বিরাজ করে, আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের সেই মরমিয়া মায়ার ইন্দ্রজাল। নদী-নারী-ভূমি-শস্যের গাথা চয়নে। এসে জড়ো হয় প্রণয়সুস্থ-যৌনতা, রাখালিয়া নিসর্গ ও গ্রামীণ সৌগন্ধ্যময় জীবনাচার, কৃত্যকৃষ্টি। তিনি নাগরিক চেতনাকেও জারিত করে নেন প্রত্নপুরাণ ও প্রকৃতিপুরাণের রূপে-রসে-রঙে। ফলে আল মাহমুদের। কবিতার প্রকরণ হয়ে ওঠে বহু আকরণের অন্তর্বয়ন ও বয়ান। তাঁর ভাববস্তুতে যেহেতু বিজড়িত থাকে রহস্যময় বহুকৌণিক সৌন্দর্য-এষণা, ঈপ্সাবর্ণিল প্রণয়বিদ্ধ শরীর সেহেতু ধ্বনি ও চিত্রের যুগলবন্দিতায় কবিতাগুলি সিদ্ধি অর্জন করে। বাংলা কবিতার মূল যে শক্তি ধ্বনিময়তা ও গীতিকাব্যিকতা তিনি তাতেই জড়িয়ে দেন চিত্ররূপের মোহনতা, আত্মসুশ্রী। জীবনদর্শনের সমবেত তাল-লয়-ছন্দ। এখানেই আল মাহমুদের স্বাতন্ত্র্য যে, প্রাকৃতায়নের তাৎপর্যে আধুনিকতার আত্মকেন্দ্রকে ছড়িয়ে দেন তার বিপুল পরিধি জুড়ে। একক নিজস্ব কবিভাষার নির্মাণে যিনি ছিলেন সিদ্ধকাম, কবিতার যাত্রাপথে তাকে দেখি বিশ্বাসের আস্তিক্যবাদে সুস্থির হতে। কিন্তু কোনো কবি কি তা হতে পারেন? তিনিও কি পেরেছেন পরম কোনো কিছুতে বিন্দুবদ্ধ হতে? না, বোধহয়, তাতে তো কবিতা রচনাই থেমে যেত। আস্তিক্যবাদী হলেও কবির সর্বদাই থাকে অস্তিত্বদর্শনের লড়াই, জীবনজগতের সঙ্গে এক অনিবার্য গোপন মিথস্ক্রিয়া, যা তাঁর ছিল ও আছে।