মীর মশাররফ হোসেন : নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে
বইয়ের বিবরণী
বইয়ের নাম:মীর মশাররফ হোসেন : নতুন তথ্যে নতুন ভাষ্যে
লেখক : শামসুজ্জামান খান
বিভাগ/ শ্রেণী: প্রবন্ধ
বিগত
প্রায়
তিরিশ
বছর
ধরে
মীর
মশাররফ
হোসেনের নানা
অপ্রকাশিত রচনা
ও
জীবন-তথ্য সংগ্রহ করে
যাচাই-বাছাই–গবেষণা-অনুসন্ধান ও
তা
নিয়ে
নানা
পত্রপত্রিকায় কিছু
লেখালেখি করেছি।
মীরের
সেইসব
লেখা
ও
তার
ওপরে
ভিত্তি
করে
রচিত
আমার
কিছু
গবেষণামূলক প্রবন্ধ নিয়ে
প্রকাশিত হল
‘মীর
মশাররফ
হোসেন
: নতুন
তথ্যে,
নতুন
ভাষ্যে’
শীর্ষক
গ্রন্থ। এই
বইকে
আমরা
তিনটি
ভাগে
বিভক্ত
করেছি।
প্রথম
ভাগে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
মীরের
অপ্রকাশিত ও
অগ্রন্থিত রচনা।
এতে
আছে।
মীরের
‘আমার
জীবনী’র অপ্রকাশিত কিছু
অংশ।
এই
অংশটি
২০০৩
সালের
ঈদসংখ্যা প্রথম
আলো’তে আমার লেখা
‘পটভূমি’সহ প্রকাশিত হয়।
‘ফাস
কাগজ’
নামাঙ্কিত প্রহসনটিও আমার
একটি
ভূমিকাসহ ইতঃপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে
দৈনিক
‘ভোরের
কাগজে’র সাময়িকীর বিশেষ
সংখ্যায় (১৪
এপ্রিল
১৯৯৮)। ওই ভূমিকায় বলা
হয়েছিল : “লেখাটিকে গাজী
মিয়ার
বস্তানীর অনুষঙ্গী রচনা
বলা
যেতে
পারে।
একে
কেউ
কেউ
প্রহসন’
বলেছেন—মীরের জীবদ্দশায় বিজ্ঞাপনেও ‘প্রহসন'
কথাটির
ব্যবহার ছিল।
আমাদের
মনে
হয়েছে
নাটকের
আদলে
একটি
নকশাজাতীয় লেখা
এটি।
কাহিনীর পরিণতিটি বিয়োগান্ত।” ড.
আবুল
আহসান
চৌধুরী
আমার
অনুমতিক্রমে এটি
তার
‘মীর
মশাররফ
হোসেন
নাট্য-সমগ্রে’ (অক্টোবর ১৯৯৯)
অন্তর্ভুক্ত করেন।
গাজী
মিয়ার
বস্তানী’র
অপ্রকাশিত অংশটি
বর্তমান গ্রন্থের মাধ্যমেই প্রথম
আলোর
মুখ
দেখল।
পূর্বে
লেখাটি
অন্য
কোথাও
প্রকাশ
করি
নি।
মীরের
অপ্রকাশিত লেখাগুলো পাওয়ার জন্য
মীর-দৌহিত্র সৈয়দ সাদুল্লাহ ও
জনাব
আবদুস
সামাদের প্রতি
কৃতজ্ঞতা জানাই।
‘মীর
মশাররফ
হোসেন
: নতুন
তথ্যে
নতুন
ভাষ্যে’র দ্বিতীয় ভাগে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে
মীরের
দ্বিতীয় স্ত্রী
‘বিবি
কুলসুমের রোজনামচা’।
নানা
দিক
থেকে
এই
রোজনামচা মূল্যবান। সম্ভবত
বর্তমান বইয়ের
সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং
বিস্ফোরক রচনা
এটি।
মীর
এবং
কুলসুমের দাম্পত্য সম্পর্ক, তাদের
পারিবারিক জীবন
এবং
মীর
রচিত
‘‘আমার
জীবনী’র জীবনী বা
বিবি
কুলসুম’
বইয়ে
মীরের
সুখী
দাম্পত্য জীবন
ও
কুলসুমের সাহিত্যমনস্কতা বিষয়ক
বক্তব্যকে বুঝে
নেওয়ার জন্য
এই
রোজনামচার গুরুত্ব অনেক।
তবে
অসুস্থতা ও
মানসিক
অশান্তির মধ্যে
লেখা
হলেও
এই
রোজনামচায় শতাধিক
বছরেরও
আগের
এক
স্বল্পশিক্ষিতা বাঙালি
মুসলমান রমণীর
ব্যক্তিত্ব, নারীত্বের চেতনা,
দাম্পত্য প্রেমের ভিত্তি
হিসেবে
স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাসের মূল্যবোধে দৃঢ় আস্থার যে-প্রতিফলন ঘটেছে তার তাৎপর্য অনস্বীকার্য। সর্বোপরি অত
পূর্বে
এক
গৃহবধূ
মুসলিম
রমণী
ডায়েরি লিখেছেন—এই
ঘটনাই
আমাদের
বিস্মিত করে।
বর্তমান কালের
লৈঙ্গিক দৃষ্টিকোণ (Gender Perspective) থেকে দেখলেও
এই
রোজনামচার অনেক
বক্তব্য তাৎপর্যবাহী।