Top Selling Products
| জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা কোনো ভুইফোড় বিষয় নয়। প্রয়োজনের পথ ধরে
কার্যকারণসূত্রেই এর ক্রমবিকাশ। তাই একদিন মানুষ মনের ভাব ব্যক্ত করার জন্য শুধু
আকার-ইঙ্গিত ও কণ্ঠনিঃসৃত ধ্বনি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে পারে নি; ভাবকে
স্থায়ীভাবে ধরে রাখা ও দূরে পাঠাবার জন্য এমন একটি মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা সে
অনুভব করেছিল যা অঙ্গভঙ্গি ও কণ্ঠধ্বনি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র হবে; সেই
মাধ্যমটিই হল তার লিপি। এও একদিনের ব্যাপার নয়। শত সহস্র বছরের প্রচেষ্টায় সে
বর্তমান লিপিরীতিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। প্রথমে চিত্রলিপি, তারপর ভাবলিপি, অতঃপর
অক্ষরলিপি এবং সবশেষে বর্ণলিপিতে উত্তীর্ণ হয়ে মানুষ স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু
লিপির ইতিহাস এত সরলরৈখিক নয়। পৃথিবীর নানান সভ্যতার ধ্বংসস্থূপে, বিভিন্ন
পর্বতগাত্রে, গুহাগাত্রে, ধাতবপাত্রে, মৃত্যলকে, চামড়ায় ও প্যাপিরাসে চিত্রিত,
উৎকীর্ণ ও লিপিকৃত দুর্বোধ্য পাঠসমূহ কঠোর সাধনায় উদ্ধার করে আধুনিক মানুষ
প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস উঘাটন ও পুনর্গঠন করার চেষ্টা করে চলেছে। বস্তুত প্রাচীনলিপির পাঠোদ্ধার প্রায় একটি অসম্ভব কাজ ছিল। কিন্তু মানুষের কাছে কোনো কিছুই যেন অসম্ভব নয়। অক্লান্ত ধৈর্য, অপরিসীম নিষ্ঠা, দুর্মর আগ্রহ নিয়ে সে প্রাচীন সঙ্কেতলিপির পাঠোদ্ধারে নিয়োজিত হয়েছে। যুগ-যুগান্তরের গবেষণায় অতঃপর সে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছেছে। যে-লিপি পাঠের কোনো পদ্ধতি জানা ছিল না, সেই লিপির অর্থোদ্ধার কী করে সম্ভব হয়েছিল? এ-ক্ষেত্রে গবেষকগণ বিশেষত অবরোহ পদ্ধতি ও সাদৃশ্যগত সূত্রের সাহায্য নিয়েছেন; ধর্মীয়–সংস্কারের ইঙ্গিত কাজে লাগিয়েছেন। নগরের নাম, দেবতার নামসূত্র প্রয়োগ করেছেন, লিপির সঙ্গে দেওয়া চিত্রের অর্থ মেলাবার চেষ্টা করেছেন এবং নিজের বোধ-বুদ্ধির প্রবুদ্ধ প্রয়োগ সাধন করেছেন। দু-তিন ভাষার অভিলিখন হলে একটির সাহায্যে অপরটির অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। ১৭৯৯-এ আবিষ্কৃত মিশরের রোজেটা স্টোনের পাঠ নির্ণয়ে জঁ ফ্রাসোয়া শ্যাপোলিয় (Jean Francois Champollion) প্রাচীন গ্রিক ও ডেমোটিক লিপির সাহায্যে হিয়েরোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধারে সমর্থ হয়েছিলেন দীর্ঘ চৌদ্দ বছরের প্রচেষ্টায়। ড. রোজনি ক্রিটিয় লিপির পাঠোদ্ধারে ফিনিশিয় প্রত্বভারতীয় ও অন্যান্য ইন্দো-ইউরোপিয় ভাষা-লিপির সাহায্য গ্রহণ করেছেন। |
There have been no reviews for this product yet.